ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপ অঞ্চলের উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রিখটার স্কেলে ২.৫ থেকে ৬.২ মাত্রার ২৩৫টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নাগেকেও রিজেন্সির এমবে থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে। ঘটনার পরপরই বিএমকেজি সুনামির সতর্কতা জারি করলেও সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে তা তুলে নেওয়া হয়। তবে ঘনঘন আফটারশকের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সিক্কা, মাঙ্গারাই এবং পূর্ব মাঙ্গারাই জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। মাঙ্গারাই রিজেন্সির রিওক গ্রামে ভূমিধসের ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নাগেকেও রিজেন্সির প্রায় দুই হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারী দল, তিনটি হেলিকপ্টার এবং একটি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ভূমিকম্প ও ভূমিধসের কারণে প্রধান সংযোগ সড়ক ‘ট্রান্স-ফ্লোরেস মহাসড়ক’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।