রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা ঘোষণার পর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও সরকারে দায়িত্ব বণ্টনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি জানায়, সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া চার সদস্য হলেন রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ফরহাদ হালিম।
এই চারজনকে নিয়ে এখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এর আগে গত ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণার এক দিন পরেই এই পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত এল। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ১৬ জন সদস্য রয়েছেন। প্রবীণ নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে দলের কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে। দলের ভেতরে নতুন মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার পর তাকেই আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে মির্জা ফখরুল সরে দাঁড়ালে সেখানে উপনির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমিন ও মির্জা শামারুহের নাম শোনা যাচ্ছে।
এদিকে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সেলিমা রহমান এবং আন্দালিভ রহমান পার্থকে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।