ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অ্যাকশনধর্মী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন, যিনি জসিম নামেই পরিচিত, আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেতা কেবল রুপালি পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
জসিম তার প্রায় দুই দশকের চলচ্চিত্রজীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয়ে যাত্রা শুরু হয়। পরের বছর ১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ সিনেমায় তিনি অ্যাকশন পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় খলনায়ক গাফফার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পান। ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা ‘শোলে’র আদলে নির্মিত এই সিনেমায় তার অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে, মূল সিনেমার গব্বর সিং চরিত্রে অভিনয় করা আমজাদ খানও জসিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
খলনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর একের পর এক অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের প্রিয় নায়কে পরিণত হন। আশির দশকে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তার জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সিনেমায় তার চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘এক মুঠো ভাত’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘লাইলী মজনু’, ‘জনি’, ‘সারেন্ডার’, ‘লালু মাস্তান’, ‘মাস্তান রাজা’, ‘কালিয়া’ ও ‘স্বামী কেন আসামি’।
অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে জসিমের আলাদা নজর ছিল। তার জীবনের অসংখ্য সাফল্যের গল্পের মধ্যে রিয়াজকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। একজন কিংবদন্তির চোখে সেদিন ধরা পড়েছিল আরেক ভবিষ্যৎ তারকা, যা রিয়াজের জীবন বদলে দিয়েছিল। তার হাত ধরেই রিয়াজ সিনেমা জগতে এসেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে জসিম ছিলেন আলোচিত। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী সুচরিতা এবং পরে তিনি নাসরিনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল ও সামি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে এই কিংবদন্তি অভিনেতা মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পরও চলচ্চিত্রাঙ্গনে তার স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে এফডিসির একটি ফ্লোর ‘জসিম ফ্লোর’ নামে পরিচিত।