কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হাজারিখিল অভয়ারণ্য পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির কোনো ভাটা পাওয়া যায়, তবে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ধ্বংস করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না। বন বিভাগের জমি যারা দখল করে রেখেছে, তাদের উচ্ছেদে ইতিমধ্যে অভিযান চলছে। চট্টগ্রামে পরিবেশ রক্ষায় এ পর্যন্ত ২৩ লাখ ৫৫ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে এবং ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে গাছ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ করা হবে। এছাড়া শিপইয়ার্ডে মৃত্যুর মতো ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প। শিল্প মালিকদের পুরোনো পদ্ধতি পরিবর্তন করে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা চালুর জন্য আলোচনা চলছে এবং তাদের এ পরিবর্তনের জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম এবং বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।