ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরে অবস্থিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তলের মালিকানাধীন আর্সেলর মিত্তল খনন ও ধাতব শিল্প কমপ্লেক্সে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহরে অবস্থিত এই বৃহৎ ইস্পাত কারখানাটিতে হামলায় দুইজন নিহত এবং ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। হামলার পর কারখানাটির ব্লাস্ট ফার্নেস এবং জ্বালানি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। আর্সেলর মিত্তল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল এই ধাতব শিল্প কারখানা এবং কিয়েভের কয়েকটি সামরিক-শিল্প স্থাপনা। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানাও ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার জবাবেই তারা এই পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। এর আগে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৮২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই অঞ্চলের পোদলস্ক শহরে রাশিয়ার অন্যতম ধনী নারী তাতিয়ানা কিমের নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। এছাড়া রোস্তভ অঞ্চলে ১৫০টির বেশি ড্রোনের হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় দুইজন, সুমি অঞ্চলে একজন এবং দোনেৎস্কে আরও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় ছয়জন আহত এবং পচাইনা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি বইয়ের বাজারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনে ১ হাজার ৫৫০টির বেশি ড্রোন, ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির থাকায় বর্তমানে বেসামরিক প্রাণহানি যুদ্ধের শুরুর সময়ের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রাশিয়ার অন্যতম ধনী নারী তাতিয়ানা কিমের হাতে।মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানী অভিমুখে প্রায় ৬০০টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির থাকায় এসব হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি ২০২২ সালের যুদ্ধের শুরুর মাসগুলোর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।