টানা মুষলধারে বৃষ্টির কবলে পড়ে আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি সোমবার সকাল নাগাদ তীব্র আকার ধারণ করলে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে শেষ তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সেখানে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর রাহাত্তারপুল, বাকলিয়া, চকবাজার, নিউমার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, কাপাসগোলা ও কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। এছাড়া আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের ওপরও জলজট সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যানবাহন চলাচলের সময় পানি নিচে পড়ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহালেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বাকলিয়ার বাসিন্দা রাজন মিয়া ও বহদ্দারহাটের এস এম গিয়াস উদ্দিন জানান, সড়কে পানি জমে থাকায় এবং গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকটের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো দায় হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে কম নামায় এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

শুধু নগরী নয়, আশপাশের উপজেলাগুলোতেও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর-সাতগড়িয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বারবার একই দুর্ভোগের শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।