ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় কংগ্রেসের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা আনিসুর রহমান (৫০) ও তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে একদল অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী তাদের ওপর গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, বেথুয়াডহরি থেকে ছেলে আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুর রহমান। পথিমধ্যে নাগাদি রেলগেটের কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় একদল হামলাকারী তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। শুধু গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা, এরপর গাড়ি থেকে তাদের বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিতা-পুত্র দুজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
নিহত আনিসুর রহমান বেঙ্গল কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদীয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নাকাশিপাড়া এলাকায় দলের একনিষ্ঠ ও জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের লোকসভার সাবেক সদস্য ও কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এই সময়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড মানুষের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানান তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদীয়ার সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।