দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ২ দিন কারাবাসের পর মুক্তি পেয়েছেন ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বহুল আলোচিত দুলাল হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম আজাদ (কালু)। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি ভোলা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। তার মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং এলাকাবাসী কারাগারের সামনে ভিড় করেন। পরে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পথে বিভিন্ন বাজারে স্থানীয়রা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বাড়িতে পৌঁছানোর পর তিনি দুধ দিয়ে গোসল করেন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দীর্ঘ সময় পর তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবুল কালাম আজাদ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজাপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। যারা তাকে দুঃসময়ে ভালোবাসা ও সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ চেয়েছেন।

কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ শেষে আইন ও কারাবিধি অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কালুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সাজা ভোগকালে প্রাপ্য রেয়াতসহ যাবতীয় হিসাব-নিকাশ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তার মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের শান্তির হাট বাজার এলাকায় একটি ঘর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কালু ও দুলাল পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে গুলির ঘটনায় দুলাল নিহত হন। এই ঘটনায় কালু ও তার সহযোগী শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রায় তিন দশকের কাছাকাছি সময় কারাগারে থাকার পর কালুর মুক্তির মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলাটির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হলো।