সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বর্তমান সরকারের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের দশটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের অবিচল সমর্থন। তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে মানুষ এবার নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে মুক্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ এবং বিএনপি ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গভীর আবেগের। তিনি তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢলকে দলের প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে এবং বর্তমান সরকার বাক্স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রেখে চলছে। মাহ্দী আমিন দাবি করেন, গত ছয় মাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, সরকার শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের দর্শন ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।
সংসদীয় কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ এখন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমকারী সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগ এবং বীরশ্রেষ্ঠদের নামে সংসদের গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে।
ইশতেহার বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবারকে সরাসরি উপকৃত করেছে। এছাড়া কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ও বৌদ্ধ অধ্যক্ষদের সম্মানি প্রদান এবং শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, এই ইশতেহারের ভিত্তি হলো শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফা।