চুরির দীর্ঘ আট মাস পর ব্রাজিলে উদ্ধার হয়েছে বিখ্যাত ফরাসি চিত্রশিল্পী অঁরি মাতিসের আটটি দুর্লভ ইলাস্ট্রেশন। সাও পাওলোর একটি লাইব্রেরি থেকে চুরি হওয়া এই শিল্পকর্মগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ মার্কিন ডলার। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের দিক থেকে এগুলো আসলে অমূল্য।

সাও পাওলো শহরের দক্ষিণে অবস্থিত সাও বের্নার্দো দো কাম্পো এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই শিল্পকর্মগুলো উদ্ধার করে। এ সময় ৪৪ বছর বয়সী জোয়াও পাওলো লিনহারেস দে আরাউজো নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, তিনি চোরদের হয়ে গোপনে এই শিল্পকর্মগুলো নিজের কাছে জমিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখারও অভিযোগ রয়েছে। এই চুরির ঘটনায় এর আগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া ইলাস্ট্রেশনগুলো মাতিসের বিখ্যাত শিল্পগ্রন্থ ‘জাজ’-এর একটি সীমিত সংস্করণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। স্থানীয় সংস্কৃতি বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত চিত্রকর্মগুলো ইতিমধ্যে ‘বিবলিওতেকা মারিও দে আন্দ্রাদে’ লাইব্রেরিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

তবে একই চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া ব্রাজিলের বিখ্যাত আধুনিক শিল্পী কান্দিদো পোর্তিনারির পাঁচটি খোদাইচিত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ছবিগুলো মূলত ব্রাজিলীয় লেখক হোসে লিন্স দো রেগোর ‘প্লানটেশন বয়’ উপন্যাসের বিশেষ সংস্করণের জন্য আঁকা হয়েছিল। পুলিশ আশঙ্কা করছে, পোর্তিনারির এই কাজগুলো ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ৫৩ বছর বয়সী লায়েসিও রদ্রিগেস দে অলিভেইরা নামের এক কুখ্যাত শিল্পচোর এই চুরির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি গত এপ্রিল থেকে কারাগারে রয়েছেন।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সাও পাওলোর ঐতিহাসিক লাইব্রেরিটিতে ‘ফ্রম বুক টু মিউজিয়াম’ শীর্ষক প্রদর্শনীর শেষ দিনে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সেদিন সকালে দুই চোর লাইব্রেরির প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষী ও সেখানে উপস্থিত এক বয়স্ক দম্পতিকে জিম্মি করে। এরপর শিল্পকর্মগুলো একটি ক্যানভাসের ব্যাগে ভরে হেঁটে নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনের দিকে পালিয়ে যায়। মাতিসের কাজগুলো ফিরে পেলেও পোর্তিনারির চিত্রকর্মগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই চুরির রহস্যের পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না।