প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। জনগণের সরকার হিসেবে বিএনপি জনসাধারণের অন্ন সংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজেট ঘোষণার সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর ট্যাক্স কমানো হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াতে না পারে। এছাড়া আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে ছুটতে না হয়। এর আগে বিকাল ৪টার দিকে তিনি ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সরকারের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী রয়েছে, যাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ৭১, ৮৬, ৯৬ সালসহ বিগত ১৭ বছরে এই গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা কী ছিল তা সবার জানা। বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি, অথচ আজ তারা সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিএনপি ২০২২ সালেই সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই প্রথম সংস্কার প্রস্তাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান না দিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান বক্তব্য রাখেন।