সৌদি আরবের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে স্কুলের পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’—এমন একটি বিতর্কিত বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল, ইহুদি এবং জেরুজালেম সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইসরায়েলভিত্তিক পাঠ্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট-সী-এর এক পর্যালোচনায় এই পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সৌদি পাঠ্যবইগুলো পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার ২০২৩-২৪ সংস্করণে ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি থাকলেও, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন সংস্করণে সেটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পাঠ্যবই থেকে শুধু জেরুজালেমের প্রসঙ্গই নয়, বরং ইসরায়েল ও ইহুদিদের নিয়ে ব্যবহৃত কিছু ভাষাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে কোথাও ‘জায়নবাদী শত্রু’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইসরাইলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মানচিত্র থেকেও ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলা হয়েছে অথবা কিছু এলাকা নামহীন রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠী সম্পর্কে আগের কিছু কঠোর ভাষাও পরিবর্তন বা বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-সী-এর দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সৌদি পাঠ্যক্রমে সহাবস্থান, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এও জানিয়েছে, পাঠ্যবইয়ে এখনো কিছু বিতর্কিত বিষয় রয়ে গেছে।
সৌদি আরবের এই পরিবর্তনকে ঘিরে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য কোনো উদ্যোগের সঙ্গে এই পরিবর্তনের যোগসূত্র আছে কি না। তবে সৌদি আরব এখনো তাদের অবস্থানে অটল। দেশটি প্রকাশ্যে বারবার জানিয়ে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার নিশ্চয়তা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না। ফলে বর্তমান পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনকে সরাসরি সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করা হচ্ছে।