আইনি নির্দেশনা অমান্য করে পুকুর ইজারা দেওয়ার অভিযোগ

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সাতখামার ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধীন ঝলঝলি এলাকায়। ১৬ দশমিক ৩৮ একর জমি, নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধের মধ্যে আদালতের আইনি নিষেধ থাকা নির্দেশনা অমান্য করে পুকুর ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এক মাছ চাষির মোঃ সবুজ ইসলামকে পুকুর ইজারার কথা বলে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং মাছের পোনা ছাড়ার অনুমতি দেয়। অভিযোগের পর স্থানীয়দের বাধায় মাছের পোনা নিয়ে যাওয়া ট্রাক আটকে দেওয়া হয়। এ নিয়ে এলাকায় বেপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সাতখামার ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধীন সাতখামার ঝলঝলি গোরস্থান নামে মোট ১৬ দশমিক ৩৮ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৫০ একরজুড়ে রয়েছে একটি পুকুর।
দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি স্থানীয় মাছ চাষিদের ইজারা দেওয়া হতো এবং ইজারা থেকে যে অর্থ মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার নামে ব্যক্তির পকেটে এই অর্থ পৌঁছে যেত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

যেভাবে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
সংশ্লিষ্ট নথি ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কাগজপত্রের মাধ্যমে ওই জমি নিজেদের দখলে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভূমি জরিপ চলাকালে ওই জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় জরিপ কর্তৃপক্ষ জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে।
এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারকে বিবাদী করে পঞ্চগড় আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে জমির বৈধ মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় আদালত জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দেয়।
পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। আপিল চলাকালে হাইকোর্ট মামলার সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বা status quo বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশে মামলার সম্পত্তি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা, জমির প্রকৃতি পরিবর্তন, পুকুরে মাছ ধরা, পুকুরের পাড়ের গাছ কাটা, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং বাদীর শান্তিপূর্ণ দখলে হস্তক্ষেপের মতো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির দখল ও বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার কথাও আদেশে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দার প্রশ্ন:
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক বলেন, “আমার বাড়ি ঝলঝলি পুকুরের পাশে। যতদূর জানি, পুকুরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলমান। পাশাপাশি আদালতের আদেশের আলোকে মামলার সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা এবং পুকুর ইজারা দেওয়ার বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের ।
অধ্যক্ষের রেজাউল করিম বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমি কোর্টের অর্ডারটি ভালোভাবে পড়িনি, আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একজন ব্যারিস্টার আমাকে জানিয়েছেন যে, আমি এই পুকুর ইজারা দিতে পারব। যেহেতু মাসখানেকের মধ্যে নতুন কমিটি আসছে, তাই নিজ ক্ষমতাবলে আমি পুকুরে মাছ ছাড়ার জন্য মাছ এনেছি।