আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এর পরের দিন শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বুধবার বিকেলে সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
চিফ হুইপ বলেন, “দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবো। দুপুর ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ উভয়ে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরুর ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভোট প্রদান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।” তাদের ভোট দেওয়া শেষ হলে পরের পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আবারও লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হবে এবং ফলাফল ঘোষণাও সরাসরি দেখানো হবে। তিনি বলেন, “আগামীকাল ইতিহাসের একটি মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে। গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।”
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।” দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমান আমাদের নেতা, তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। সেই সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছি। এখন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার এবং বিরোধী দল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই।” চিফ হুইপ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিভাবে ভোটগ্রহণ হয়, এদেশের মানুষ সেটা আবারও প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। এর মাধ্যমে আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করব।”
ব্রিফিংয়ে হুইপ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জি কে গউছ, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, খন্দকার আবু আশফাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর প্রার্থী হলেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।