বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদে শুরু হওয়া ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, যা হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী।
একাদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ভোটে বিজয়ী হলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
গণমাধ্যমকে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, যে বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠি, দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে-নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে পারবে। যেখানে আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে। যেখানে আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ তাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশীরা একটি আত্ম মর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।’
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথমেই আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই দেশবাসীর কাছে যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে আমি পাশে ছিলাম, সুখে-দুঃখে তাদের কাছে ছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি মনে করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক কিছু মিস করব। যা স্মরণ করলে আমি আবেগকে ধরে রাখতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘দোয়া করি সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন। কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সকলে সরকারকে সহযোগিতা করুন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এ দিনে আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, আমার মন কাঁদে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা মনে আসলেই। মহীয়সী এই নারী নেত্রী, প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার আমি সান্নিধ্য পেয়েছি, স্নেহ পেয়েছি। আজকে আমার ক্ষণে ক্ষণে তার কথা স্মরণে আসে। আমার আবেগ কেঁপে ওঠে।’
ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরে যোগ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠন করা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে। দীর্ঘ পরিক্রমায় তার ওপরই বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি এবং তারেক রহমানের মন্ত্রিসভারও সদস্য হন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন। গত কয়েকদিন ধরেই হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের নেতা-কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে ভিড় করেছেন। সকলের সাথে দেখা দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন।
গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় যোগ দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তার আসনটি শূন্য হয়ে যাবে বলে সংসদীয় দলের সভায় এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ অংশগ্রহণ।