চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হবে এবং শেষ হবে ১৫ ডিসেম্বর। এবার অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সূচি সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সূচি নির্ধারণ করা হয়।"
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এই পরীক্ষা ১৫ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষা কিছুটা এগিয়ে এনে নতুন এই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আলোকেই এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর রোববার গণিত এবং সর্বশেষ ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
এবারের পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই চার বিষয়ের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিন বিষয়ের প্রতিটির পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে এবং প্রতিটি পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে তিন ঘণ্টা। আর পরীক্ষার শেষ দিনে বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই দুই বিষয়ের জন্য মোট তিন ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় থাকবে এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে শিক্ষার্থীদের।
পরীক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনোভাবেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষায় বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। তবে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।