ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠন করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য। তিনি মন্তব্য করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কোনো জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়; এর জন্য মানব সম্পদের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বোর্ডের বিভিন্ন স্কিমের আওতায় তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মাঝে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আজ শুধু ফ্রিল্যান্সার তৈরি করেনি, বরং উদ্যোক্তাও সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনী ব্যবস্থা তৈরি করছে। আগে ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ দেশে আনতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো, কিন্তু বর্তমান সরকার এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মানব সম্পদ উন্নয়নে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে এবং এ ক্ষেত্রে পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’র ধারণার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংধনু যেমন সুন্দর, তেমনই পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সবাই মিলে এই অঞ্চল, দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, সদস্য অর্থ (যুগ্ম সচিব) সুমন বড়ুয়া, সদস্য পরিকল্পনা (উপ-সচিব) জাহিদ ইকবাল এবং রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিন পার্বত্য জেলার মোট ২০০ জনকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫০ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী ও সনদ বিতরণের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গামাটি পার্ক সংলগ্ন ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধন করেন। বিকেলে তিনি রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে মহরমপুর খাল পর্যন্ত রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মহাপুরম খালের ওপর নবনির্মিত ব্রিজ উদ্বোধন করেন। এর আগে, চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি পৌঁছানোর পর তিনি জেলা পরিষদ আয়োজিত একটি ই-লার্নিং সেন্টারের উদ্বোধন করেন।