পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক। এ বিষয়ে তারা পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল অ্যাথারটন, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, লি জার্মন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যানড্রু স্ট্রস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য সাম্প্রতিক যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা উল্লেখ করেন যে, সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বোন ডা. উজমা খানসহ একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আদালত প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সাবেক অধিনায়কদের মতে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানে তিনি মাত্র কয়েক ঘণ্টা ছিলেন। আদালতের মেডিকেল বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োগকৃত একটি দল তাকে পরীক্ষা করে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

চিঠিতে তারা তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে, বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পারিবারিক সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সুযোগ কোনো প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসকদের সুপারিশকৃত চিকিৎসা যেন কোনো বিলম্ব ছাড়াই প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ছয় মাসের মধ্যে এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবেক অধিনায়কদের দ্বিতীয় আবেদন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন অধিনায়ক একই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিক মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তার বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কারাগারে তার অবস্থা নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ‘ডেথ সেলে’ রেখে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হলেও পাকিস্তান সরকার তা বারবার অস্বীকার করেছে।

ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির মামলাগুলোর মধ্যে তাকে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে নিজের বর্তমান স্ত্রীকে বিয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অপেক্ষার সময় না মানার অভিযোগেও তাকে