শিল্প খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ কমিয়ে তা শিল্প, সিএনজি এবং বাসাবাড়িতে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আপাতত ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ জানিয়েছেন, লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং শিল্প খাতকে সচল রাখতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষাপটে গত শনিবার রাত থেকেই এই নতুন বরাদ্দ কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বরাদ্দ ৯৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৮৫ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে শিল্প, বাসাবাড়ি এবং সিএনজি খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৩৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। পাশাপাশি সার কারখানায় ১৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। রোববার বিকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৩৭ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে এলএনজির পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২৬ তারিখের কোনো এলএনজি কার্গো না পাওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৈনিক ২৩৭ কোটি ঘনফুটের সরবরাহ বজায় রাখা चुनौतीपूर्ण হতে পারে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিপ্পার তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির খরচ ১৫ টাকার বেশি পড়ছে, যেখানে ফার্নেস অয়েলের খরচ ১৪ টাকার বেশি। তবে আমদানি শুল্ক যুক্ত হলে এই ব্যয়ের চিত্র ভিন্ন হতে পারে। গরমের তীব্রতা এবং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ফার্নেস অয়েলের মজুত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে হঠাৎ চাহিদা ৩৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিপিসি আমদানি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। যদিও ৫ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়েছিল, তবে নিয়মিত কার্গো সরবরাহের অভাবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। অবশেষে ২২ আগস্ট ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি কার্গো সংযুক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে রাজধানীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যেখানে লোডশেডিং এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা শহর এবং সবশেষে প্রত্যন্ত গ্রামে লোডশেডিংয়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।