রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত চারজনের মুখমণ্ডল বীভৎস অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেই সাথে মরদেহগুলোর মুখের আশপাশে একটি রহস্যময় তরল পদার্থ শনাক্ত হয়েছে, যা কোনো রাসায়নিক কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় মরদেহগুলোর মুখের বীভৎসতা এবং তরল পদার্থের উপস্থিতির কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৬) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। শনিবার রাত সাড়ে ১টার দিকে পুলিশ তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কাউকে নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রীতিলতা চক্রবর্তী তাঁর ছোট বোনের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং পচা গন্ধ ও ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে পুলিশে খবর দেন।
ইতিমধ্যে এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রংপুর মহানগর পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুই তরুণ পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। শব্দ শুনে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বাধা দিলে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরিচয় ফাঁসের ভয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, তবে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।