জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির নিখোঁজের ঘটনায় আইনি পরামর্শ দেওয়ার জেরে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাকিবের বাবা শাহিন ও মা রহিমা বিবি গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাতে আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের ফাজেল নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ হন। তার স্ত্রী রাকিব হোসেনের কাছে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে রাকিব তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরদিন ২৩ আগস্ট দুপুরে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ফাজেলকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পুটুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দক্ষিণ বস্তা বাসতা গ্রামে রাকিবের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় রাকিবের বাবা-মাকে মারধর করা হয় এবং তার ছোট ভাইয়ের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রাকিব হোসেন বলেন, আমি শুধু ফাজেলের স্ত্রীকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছিলাম। এই সামান্য কারণেই খলিলুর রহমান পুটুর নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা ও বাবা-মাকে মারধর করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে আমি থানায় এজাহার দাখিল করব। তবে সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পুটু হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাকিব তার ওপর হাত তুলেছিল এবং তারা নিজেরা হট্টগোল করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রদল। গত ২৪ আগস্ট রাতে যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া জয়পুরহাট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ অন্যায্য হামলার বিচার দাবি করেছেন। ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০০আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০৭

এদিকে, গত ২৪ আগস্ট রাত ১১টায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করা হয়।