মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর)-দের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন কমিটির আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ। তিনি আরও বলেন, আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের অংশ হবে, তাই তাদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ছাড়া কার্যকর পরিকল্পনা সম্ভব নয়।
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান মাভাবিপ্রবির ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা। সময়ের সঙ্গে শিক্ষা ও প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটছে, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে প্রতিফলিত করে এমন একটি একাডেমিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সমস্যা, একাডেমিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়গুলো মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে।
সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির এক্সপার্ট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মোঃ তারিক একাডেমিক মাস্টার প্ল্যানের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন। এ সময় কমিটির সদস্য মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন, সদস্য-সচিব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলাম, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ ফজলুল করিম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সিআরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সিআররা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিকুলাম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আগামী ৫০ বছরের একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। সিআরবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণীত ২০২৬–২০৭৫ মেয়াদের এই মাস্টার প্ল্যান মাভাবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি একটি টেকসই, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।