ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী নয়নতারা। বর্তমানে একটি ছবির জন্য তিনি প্রায় ১২ থেকে ১৮ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিলেও তার এই সাফল্যের যাত্রাটি মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের গল্পই শুনিয়েছেন।
নয়নতারার শৈশব কেটেছে এক জায়গায় থিতু হয়ে নয়। তার বাবা ভারতীয় বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ফলে দিল্লি, গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় স্কুলজীবনের বড় অংশ কাটে তার। দিল্লি ও গুজরাটের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়ার সময় নানা ভাষাভাষী বন্ধুদের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা। সেখানে নিজেকে কখনো আলাদা মনে হয়নি। কিন্তু বাবার অবসরের পর পরিবার যখন কেরালায় ফিরে যায়, বদলে যায় পরিস্থিতি। নিজের রাজ্যেই যেন নিজেকে বহিরাগত মনে হতে শুরু করে নয়নতারার। সহপাঠীদের জীবনযাপন ও বেড়ে ওঠার সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার ছিল বেশ পার্থক্য। তিনি জানান, তাদের অনেকেই দুবাই বা আবুধাবি থেকে ফিরেছিল এবং তাদের জীবনধারা ছিল তার পরিবারের চেয়ে আলাদা।
নয়নতারা জানিয়েছেন, তখন তিনি ছিলেন ভীষণ আত্মবিশ্বাসহীন। কেরালায় ফিরে আসাটাকেও একসময় নিজের জীবনের ‘ভুল’ বলে মনে হয়েছিল তার। দিল্লি-গুজরাটের স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠীদের আন্তরিকতা—সবই ভীষণভাবে মনে পড়ত। পড়াশোনাতেও নিজেকে খুব ভালো মনে হতো না। সব মিলিয়ে সময়টিকে জীবনের ‘সবচেয়ে নিচু পর্যায়ের একটি’ বলে মনে করেন তিনি। তবে ১৫ বছর বয়সী সেই মেয়েটিকে আজ ফিরে গিয়ে একটি কথাই বলতে চান নয়নতারা—“তুমি পারবে।”
কলেজে পড়ার সময় শখের বশে মডেলিং শুরু করেছিলেন তিনি। একটি ফ্যাশন অনুষ্ঠানে মডেল হিসেবে কাজ করে প্রথম পারিশ্রমিক পান মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার রুপি। সেই কাজেই পরিচালক সত্যন অন্তিক্কাডের নজরে পড়েন তিনি। ২০০৩ সালে ‘মনসিনাক্কারে’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ আসে। সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়ার কোনো পরিকল্পনাই তখন ছিল না তার; একটি ছবির কাজ হিসেবেই রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটি বড় সাফল্য পায়। এরপর ফাজিলের ‘ভিস্ময়াথুম্বাথ্থু’-তে মোহনলালের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান। দর্শকের প্রশংসা তাকে বদলে দেয়। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল নারী তারকায় পরিণত করেছে। একসময় ২ হাজার রুপির পারিশ্রমিক পাওয়া সেই মডেলই এখন কোটি রুপির অভিনেত্রী—নয়নতারার গল্প যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এক জীবন্ত উপাখ্যান।