মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওর বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যকে লক্ষ্য করে করা এই হুমকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং এক বিবৃতিতে জানান, তাদের সুরক্ষার আওতাধীন ব্যক্তিদের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করেন। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভিডিওটির শুরুতেই ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে’ এমন একটি গ্রাফিক দেখানো হয়েছে।
ভিডিওটিতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে নজরদারির আওতায় রাখার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার পড়াশোনার স্থান, নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ার এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম টাইম জানিয়েছে, ভিডিওতে করা এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ব্যারন ট্রাম্প সত্যিই নজরদারিতে আছেন কিংবা তার নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে ভিডিওতে কোনো প্রমাণ নেই। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে।
সিএনএন এর আগেই ব্যারন ট্রাম্পকে দেওয়া হুমকির বিষয়ে সিক্রেট সার্ভিসের অবগত থাকার খবর প্রকাশ করেছিল। আইআরআইবি মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা-নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান। এর আগেও ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইরান থেকে হুমকির ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেই ভিডিওতে মেলানিয়া ট্রাম্পের নিরাপত্তাব্যবস্থার কথিত দুর্বলতা এবং তার ওপর হামলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যারন ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক বার্তা দেওয়া হয়েছিল।