বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে তৈরি করা নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবারের প্রমোদতরি ‘আইল্যান্ড গার্ল’ সাগরে ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেছে। কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টের কাছে মঙ্গলবার সকালে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবারের চার সদস্য সাগরে ছিটকে পড়লেও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ১৬ বছর বয়সী কিশোর আলবার্ট এখনো নিখোঁজ রয়েছে। দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বুধবার বিকাল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পুদনে, তার ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী বেলা এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফ। উদ্ধার অভিযানের পর রালফের ভাষ্যমতে, যখন ঢেউ আঘাত করছিল তখন সে ও তার বাবা ডেকে ছিলেন। তার মা ত্রিপলের নিচে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরানোর চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আলবার্টের লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকমতো আটকানো ছিল না এবং সে সাঁতারও জানত না।

প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে কক্সবাজার শহরের এসএম পাড়ায় তৈরি করা হয়েছিল এই প্রমোদতরি। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রান্নাঘর ও ফ্রিজসহ দীর্ঘ সময় বসবাসের উপযোগী সব সুবিধা ছিল। পরিবারটি প্রায় আড়াই বছর ধরে এই বোটে বসবাস করে দেশের বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় এলাকায় ভ্রমণ করছিল। দুর্ঘটনার সময় তারা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। এর আগে বোটটি বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়ায় বিআইডব্লিউটিএ জেটির বিপরীতে নোঙর করা ছিল।

নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী মঙ্গলবার থেকেই সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেরা নৌকা নিয়ে আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে ডুবুরি দল না থাকায় শুরুতে উদ্ধারকাজে সমস্যা হলেও বর্তমানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বোটটির ভেঙে যাওয়া অংশ স্থানীয় নৌকার সহায়তায় তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।