ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যায়ে কিছুই অর্জন করতে সক্ষম হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে যুদ্ধ করেও তারা কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান আগের মতোই দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে এক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ বজায় রেখেছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় যারা সহযোগিতা করবে না, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার দাবি করেন, ইরানের সামরিক কারখানা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান ও নৌপরিবহণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস জানিয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে এবং ভবিষ্যতের চাপ মোকাবিলায় তাদের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার দাবি করলেও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প আলজাজিরাকে বলেছেন, তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সংকট নিরসনে ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা আসতে পারে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলে পরবর্তীতে স্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে রেভল্যুশনারি গার্ডসের অভিযোগ, রাজস্ব ভাগাভাগিসংক্রান্ত এই সমঝোতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে।