মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশসহ চার দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। বিবৃতিতে সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেন এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির (এনএএফইএ) পক্ষে সভাপতি দিক বাহাদুর খত্রি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) পক্ষে সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজ উল ইসলাম, মায়ানমার ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশনের (এমওইএএ) চেয়ারম্যান মিয়ো থান্ট এবং পাকিস্তান ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্রমোটারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিওইপিএ) চেয়ারম্যান সাইয়েদ রহমত আলী শাহ।
চার দেশের এই সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সমর্থন করে। তবে কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা নিয়োগ ব্যবস্থা যেন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফডব্লিউসিএমএস) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করার পর এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়। বায়রার একাংশ এবং সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্টরা দীর্ঘদিন ধরেই সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ২৫ এজেন্সির এই তালিকা আবারও সিন্ডিকেট তৈরির পথ সুগম করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোতে হাজার হাজার বৈধ লাইসেন্সধারী এজেন্সি রয়েছে, যাদের সমান ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার পাওয়ার আইনি অধিকার আছে। কিন্তু সীমিত কিছু সংস্থাকে একচেটিয়া সুবিধা দিলে তা ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও নৈতিক নিয়োগের নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর ফলে নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মী উভয়েরই ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তাদের পছন্দের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে মালয়েশিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের এফডব্লিউসিএমএস নিয়োগ ব্যবস্থাটি পুনরায় পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
চার দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের এই অবস্থান মালয়েশিয়া বা ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার একটি সম্মিলিত আহ্বান। তারা দাবি করেছেন, কর্মী নিয়োগে যেন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না করে যোগ্য ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব সংস্থাকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে একটি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ বণ্টন এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিও জানান তারা।