নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক ঢলের ঘটনায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে, যা পরবর্তীতে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে আঘাত হানে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নেপাল পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৫৯, যা উদ্ধারের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখনো এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় একজন বৃদ্ধাকে উদ্ধারের পর উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে রাস্তাঘাট, সেতু ধ্বংস হওয়া এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। এদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিকসহ অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকরাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

নতুন করে আরেকটি বড় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্ট ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড)-এর জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং সতর্ক করেছেন যে, নদীর উজানে জমে থাকা পানি ও ধ্বংসস্তূপের বাঁধ ভেঙে গেলে ভাটির দিকে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ওই জলাধারে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল এবং আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদী ও পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উজানে জমে থাকা বিপুল পানি ও ধ্বংসস্তূপ নতুন করে ভাটির দিকে নেমে এলে নেপাল আরও ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই উদ্ধারকাজের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।