নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শনিবার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সবুজ প্রামানিক (২৯), মো. জাহের আলী প্রামানিক (৪৫), মো. হাসান আলী প্রামানিক (৫৭), মো. রবিউল করিম (৪০), মো. আশিক আহম্মেদ (২২), মো. নাইম আলী (১৯), মো. রেজাউল করিম (২৮), মো. আল-আমিন (২৭) এবং মো. কামরুল ইসলাম (২১)। তারা সবাই ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং এজাহারভুক্ত আসামি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, গত মঙ্গলবার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে লাম ইসলাম (৯) ও ফারহান (৮) নামের দুই শিশু নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে মারা যায়। তাদের জানাজার জন্য ওয়াপদা বাজার সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে আনা হলে উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার পরিবারের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। দাফন শেষে অভিভাবকদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালে স্থানীয়রা দলবদ্ধভাবে এসআই আবুল বাসার ও কনস্টেবল রাকিবকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন।
পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে পুলিশ সদস্যরা ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করা হয়। একপর্যায়ে লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় এসআই এমদাদুল হক বাদী হয়ে বুধবার রাতে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গণহারে মামলা দায়েরের পর থেকে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, তারা সাধারণ দিনমজুর এবং ঘটনার সাথে জড়িত নন। তবে ওসি আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে এবং অযথা কাউকে হয়রানি করা হবে না।