মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় জড়ো হয়েছে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা। গ্রহ, নক্ষত্র, রকেট, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং নিজেদের মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ শনিবার ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। সারা বাংলাদেশ থেকে ২০২ জন শিক্ষার্থী এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের চারটি বয়সভিত্তিক শ্রেণিতে ভাগ করে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অলিম্পিয়াডে মহাকাশবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গ্রহ-নক্ষত্র, রকেট, স্যাটেলাইট, মহাকাশ অভিযান, মহাকাশচারীদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাই করা হয়। বড় বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য মহাকাশ রোবোটিকস, মঙ্গল গ্রহের রোভার, মহাকাশ স্টেশন ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত এই প্রতিযোগিতার আগে অনলাইনে বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এসব পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। অনলাইন পর্বের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়েই এই চূড়ান্ত আসর বসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এআইইউবি-এর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। মহাকাশবিজ্ঞানের মতো বিষয়কে আনন্দের সঙ্গে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিতে পারলে শিশুদের শেখা আরও গভীর ও কার্যকর হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, এই অলিম্পিয়াড দেশের বিজ্ঞানশিক্ষায় ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, মহাকাশ ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই তৈরি হওয়া উচিত। এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কৌতূহল ও প্রশ্ন দেখে তিনি আশাবাদী।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশ নিয়ে গভীর আগ্রহ ও ভবিষ্যতের নানা স্বপ্নের প্রতিফলন দেখা গেছে। সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাভ জানায়, মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছায় সে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রামের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আইমান আদিল মহাকাশচারী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রানা জানায়, ভিডিও দেখে মহাকাশের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং সে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক কামরুল হাসান জানান, মহাকাশের প্রতি ছেলের আগের থেকেই আগ্রহ ছিল, তাই তাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছেন।
আয়োজনটি সম্পর্কে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি আরিফুল হাসান বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। তৃতীয় আসরে চারটি বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরি ও আলাদা কারিকুলাম চালু করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শেখার ও প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পায়। তিনি বলেন, আজ যারা পুরস্কার পেয়েছে, তারা শুধু বিজয়ী নয়, তারা আগামী দিনের পথপ্রদর্শক। ভবিষ্যতেও দেশের প্রত্যেক শিশুর মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও মহাকাশ নিয়ে কৌতূহল ছড়িয়ে দিতে তারা কাজ করে যাবেন। দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।