আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’সহ দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধ, দায়মুক্তি রোধ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা। পরবর্তীতে ৩২টি দেশ এই সনদ অনুস্বাক্ষর করলে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ কার্যকর হয়। সেই সনদের মাধ্যমেই ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে মানবতাবিরোধী এই অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি এবং রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহিতার চাপ সৃষ্টি করতে দিবসটি নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে।
বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশে সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে দেড় শতাধিক মানুষের কোনো সন্ধান আজও মেলেনি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘ বন্দিদশা পেরিয়ে কিছু মানুষের মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় এই নির্মমতা নতুন করে সামনে এসেছে। এই পটভূমিতে নিখোঁজ স্বজনদের অক্ষুণ্ণ অপেক্ষার অবসান ও ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার রয়েছে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনটি।
গুমের মতো গুরুতর অপরাধ চিরতরে দমন করতে রাষ্ট্র এবার কঠোর আইনি কাঠামো তৈরিতে হাত দিয়েছে। গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবিত এই বিলে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গুমের কারণে যদি ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, মরদেহ উদ্ধার করা যায় কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও ব্যক্তির কোনো সন্ধান না মেলে, তবে অপরাধীর জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের কঠোরতম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।