বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের অচলাবস্থা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকারি টেন্ডারে সরবরাহকৃত মালামালের নিম্নমান এবং পৌনে ৭ কোটি টাকার নতুন সাব-স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাবনা ঘিরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং চিঠি চালাচালি চলছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের ২৫০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটর সরবরাহের চুক্তি থাকলেও সেখানে চীনে তৈরি মাত্র ১২০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটর বসানো হয়েছে। বারবার জানানো সত্ত্বেও বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের নিম্নমান ও ঝুঁকি নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
গত ১৫ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো চিঠিতে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন, কলেজে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাঁচ টনের এয়ার কুলার স্থাপন করা হলেও সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতার নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। অধ্যক্ষের মতে, কলেজে আগে থেকেই একটি সাব-স্টেশন ও ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সফরমার রয়েছে। নতুন এয়ার কুলার চালানোর জন্য সক্ষমতা ৫০০ কিলোওয়াট বাড়ালেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, তার মতামত বা প্রতি-স্বাক্ষর ছাড়াই এই বিশাল বাজেটের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এতে স্বাক্ষরের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলীও জানিয়েছেন, বর্তমানে কলেজে তিনটি সাব-স্টেশন রয়েছে এবং নতুন করে ট্রান্সফরমার সংযোজন করলেই বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এদিকে, বগুড়া সু-শাসনের জন্য প্রশাসনের সাধারণ সম্পাদক কে. জি. এম ফারুক তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এভাবে সরকার ও জনগণকে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুন হক। তিনি দাবি করেন, শজিমেকে উন্নয়ন কাজে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি নেই এবং তিনি নিজে কাজ পরিদর্শন করে সবকিছু নিয়ম মেনেই বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন।