স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, গুমের মতো অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীরা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানোকে রাষ্ট্রের একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
গুমের শিকার হওয়া মানুষদের গভীর শ্রদ্ধা ও তীব্র বেদনার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে যেসব মা-বাবা, ভাই-বোন তাদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, তাদের কষ্ট অপরিসীম। তিনি সেইসব স্ত্রীদের প্রতি সমবেদনা জানান যারা স্বামী হারিয়ে কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়াই করছেন, এবং সেইসব সন্তানদের স্মরণ করেন যাদের শৈশব কেটেছে বাবার ফেরার অপেক্ষায়, কিন্তু বাবা আর ফিরে আসেননি।
গুমকে একটি সাধারণ অপরাধ নয় বরং মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, গুম কেবল একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং তার পুরো পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক স্বস্তিও কেড়ে নেয়। বিগত দেড় দশকে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম ও ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শামিল হয়েছেন, তাদের স্তব্ধ করতেই তুলে নিয়ে গুম বা গোপনে খুন করা হয়েছে। অথচ তৎকালীন ফ্যাসিবাদের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় এই গুরুতর অপরাধ অস্বীকার করে গেছে।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ভয়ের কোনো সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে তবে আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ থাকবে না। সর্বোপরি, রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।