মেহেরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলায় দুই মূল আসামি গ্রেপ্তার
মোঃ মামুনুর রশীদ : জেলা প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধর, আটকে রাখা এবং মোবাইল ও সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মামলায় মূল দুই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে মেহেরপুর শহরের নিমতলা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাংনী ও মেহেরপুর থানা পুলিশ ও মেহেরপুর ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কাজীপুর ডিগ্রি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামান বাবর আলী। তারা এ মামলার এজাহারভূক্ত ১ ও ২ নাম্বার আসামি।
এর আগে শনিবার তেঁতুলবাড়ীয়া এলাকা থেকে খায়রুজ্জামান ওরফে আকামত নামে মামলার এক অজ্ঞাতনামা আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার এজাহার ও সাংবাদিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে যান নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ ও দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন।
এ সময় তাদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।
হামলায় আহত দুই সাংবাদিককে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা গাংনী থানায় গিয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা হয়। মামলা নম্বর* ৪৬/২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৭৯, ১১৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গাংনী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।