দেশের ই-কমার্স খাতে গ্রাহক প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিসের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য তুলে ধরেন। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়টি উত্থাপন করলে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান দেন।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা ৫৩১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা এরই মধ্যে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে ৫৩৪ কোটি টাকা শনাক্ত করে ৪৭৬ কোটি ২ লাখ টাকা ৯৫ হাজার ৯২৩ জনকে ফেরত দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে প্রতারণার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহকের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগ যাচাই, প্রকৃত পাওনাদার শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন মামলার তদন্তের কারণে অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে।
ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি দেওয়া হয়েছে। লেনদেন নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও এসক্রো সেবা নীতিমালা’ কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে গ্রাহকের অর্থ সরাসরি বিক্রেতার কাছে না গিয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ছাড় করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, ই-কমার্স খাতকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার একটি ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। তবে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে সময় সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে অধিদপ্তরকে আরও ক্ষমতাবান করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।