তেহরানের কোনো এক বৃষ্টির দিনে সেই সন্ধ্যার কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ছিল না। বহু দূরের সেই অবাধ্য ঋতুর বৃষ্টিতে হিজাব খুলে পড়েছিল বাদামি চুলের ভেতর দিয়ে। যেন গোপন সাম্রাজ্যের সমস্ত মিনার অন্ধকার আখরোটের আবরণ খসিয়ে এক তুরুপে ধরা দিয়েছিল। প্রিয়ার মাথার চারপাশে বাঁক নেওয়া কালো বাদামি চুলের সরলতা বহুদিনের বন্ধ পারস্যদ্বারের শেকল খুলে দিয়েছিল, আর সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিল কেশর, ধূপ আর নির্বাসনের মতো অপ্রকাশিত রুবাই।

বৃষ্টি থেকে ফিরে আসা এক অচেনা সারসের মতো সেই রূপ ক্যাফের কাচ থেকে সন্ধ্যায় আর সন্ধ্যা থেকে বহু জন্মের অনাদায়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি একটি ফুল তোলা বাংলা রুমাল এগিয়ে দিয়েছিলাম দুগ্ধবর্ণ হাতের তালুতে, আর বিনিময়ে পেয়েছিলাম জাফরানের গন্ধে ভেজা এক অসমাপ্ত পারস্য সন্ধ্যা। সেই একদিনের জন্য হিজাবহীন চুলের কাছে সমস্ত যুক্তি, নাগরিকতা আর ভবিষ্যৎ জন্মের প্রস্তুতি পরাজিত হয়েছিল।

এরপর আবার তিনি তার গোপন নক্ষত্রের নিচে মুখ ঢেকে নিয়েছেন আর আমি শহরের ভিড়ে অনর্থক রুমালের মতো উড়ে বেড়িয়েছি। এখন বৃষ্টি নামলে মনে হয় দুই দেশের মাঝখানে অদৃশ্য কোনো কারাভান পথ খুলে গেছে, যেখান থেকে অসংখ্য নির্বাসিত সন্ধ্যা কালো বাদামি চুলের গন্ধ বহন করে নিয়ে আসে। জাফরান কি আগুনের কাছাকাছি জন্মায়? আমি জানি না, তবে সেদিন ভেজা চুলের ভেতর যেন এক অগ্নিময় মরুভূমি ঘুমিয়ে ছিল। আজও আমার কাছে পারস্যের নির্দিষ্ট কোনো মানচিত্র বা পতাকা নেই; আমার কাছে পারস্য মানেই বৃষ্টির পরে মৃত্তিকার মতো হিজাবহীন রমনীর খোলা চুল, হাতে তুলে দেওয়া ভেজা রুমাল আর বহু জন্ম ধরে নিঃশব্দে পুড়ে যাওয়া জাফরানময় একাকীত্ব।