রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রোববার রাতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রাত পৌনে আটটার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এলাকায় প্রবেশ করে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং এরপরই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন।
হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন চা-দোকানি আলমগীর (৩৩), আশা আক্তার (২০) এবং সিয়াম (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আশা আক্তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় গুলিবিদ্ধ হন, আর সিয়াম একটি খাবার দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
মুদিদোকানদার মো. ইদ্রিস জানান, গুলির আওয়াজ শুনে তিনি দ্রুত দোকানের শাটার নামিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্থানীয় লোকজন মো. রাকিব, মো. বিল্লাল ও মো. রিফাত নামের তিন তরুণকে মাদক বিক্রির সময় আটক করে বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে মারধর করেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ তিন তরুণকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা মনির হোসেনের কার্যালয়সহ আশপাশের অন্তত পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মনির হোসেন ও তার ভাগনে রাসেলের সঙ্গে ‘অটো সজল’ নামের এক মাদক ব্যবসায়ী ও তার লোকজনের বিরোধ ছিল। পুলিশ বলছে, মনির হোসেন নিজেও তার কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়েছেন।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। সোমবার সকালে সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় মাদক ব্যবসা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে।