রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল প্রকাশ করেছে পুলিশ। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গত ৩০ আগস্ট রংপুর জেলগেট থেকে সংগৃহীত আসামিদের নমুনার ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনিশিয়ানরা সোমবার দুপুরে এই ফলাফল প্রদান করেন, যেখানে তাদের শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি মেলেনি।

এর আগে, গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জয়েল (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)-কে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় আসামিরা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে চারজনকে হত্যা করেছে। অভিযুক্তরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার রহস্য উন্মোচনে আদালত আসামিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। তবে ইয়াবা সেবনকারী দুই যুবক কীভাবে চারজনকে হত্যা করল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবিতে রংপুরে আন্দোলন চলছে।