বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) সোমবার সার্কুলার লেটার নং-৩০ জারির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দিয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এ নির্দেশনায় বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, কিস্তি পরিশোধ শুরুর আগে বড় ঋণগ্রহীতারা দুই বছর সময় পাবেন এবং দীর্ঘ ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। এছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে।

এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আগ্রহী ঋণগ্রহীতাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর সব আবেদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যারা ইতিপূর্বে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ অথবা নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটির আওতায় সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন এই বাড়তি সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে আগে নেওয়া গ্রেস পিরিয়ডের সময় নতুন করে গণনা করা হবে না; ইতিমধ্যে অতিবাহিত সময় নতুন গ্রেস পিরিয়ডের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১ হাজার কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই বহাল থাকবে। নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ঋণের শ্রেণিমান অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন এবং বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের আওতায় আসবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি করায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহের চাপ কমবে। তবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বর্তমান চাপের মুখে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য এই বিশেষ ছাড় ঋণ শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রকৃত খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।