রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম এই অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের ব্যবহার করে বাড়ির মালিকদের নোটিশের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন এবং পরবর্তীতে সেই নোটিশ গায়েব করে দেন। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি বাণিজ্য, মোবাইল কোর্টের নামে রফা এবং বিপুল পরিমাণ প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, জনস্বার্থে তিনি এই অভিযোগ দাখিল করছেন যাতে দুর্নীতির এই ধারা বন্ধ হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, হামিদুল ইসলাম ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তিনি উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে জোন-৫ এর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ এপ্রিল ২০২৫ এবং ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি পাঁচ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন। এছাড়া ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এরিয়া বণ্টন করেন এবং পরে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই এলাকায় মিসেস রহিমা সাহাবুদ্দিনের হোল্ডিং-৮২ এর ক্ষেত্রেও ১৫ লাখ টাকা নিয়ে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি চাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের পর থেকে রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসায় গ্রামে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি মোটা অংকের টাকা খরচ করে জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব সম্পদের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি এবং কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং কাউকে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদকের কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত শুরু করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডে হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ (মালিক কামরুল হাসান) এর ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়।