০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কুমিল্লার চান্দিনায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কাকিমা শিল্পী রানী দাসকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বকুল রানী দাস নামে অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক Mithila Islam (মিথিলা ইসলাম) এ রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে খালাস পাওয়া বকুল রানী দাস এ সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বারইপাড়া এলাকার মৃত ক্ষিতীশ দাসের ছেলে সমীর চন্দ্র দাস (৪২) ও তার স্ত্রী রূপালী রানী দাস (৩৭)।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দিনার মহিচাইল এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রণজিৎ চন্দ্র দাস ও তার স্ত্রী শিল্পী রানী দাসের সঙ্গে আসামিদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সমীর চন্দ্র দাস, রূপালী রানী দাস ও বকুল রানী দাস ধারালো দা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পী রানী দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত রণজিৎ চন্দ্র দাসকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দণ্ডপ্রাপ্ত সমীর ও রূপালীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান তদন্ত শেষে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে সমীর চন্দ্র দাস ও রূপালী রানী দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩০৪(১খ) ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এর পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হিসেবে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া রতন।