মব বা দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপসংস্কৃতি শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলার জন্য দেশের প্রচলিত আইনই যথেষ্ট এবং নতুন করে কোনো আলাদা আইনের প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বিজিবি সদর দপ্তরে 'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার'-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মবের অপসংস্কৃতি মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন রয়েছে।
মাদক মামলার জটিলতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলা জট, তদন্ত সক্ষমতার অভাব, জনবল সংকট এবং পুরোনো আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে আসামিরা অনেক সময় খালাস পেয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার, চট্টগ্রামে ৩০ হাজার এবং কক্সবাজারে ২০ হাজারের বেশি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন সাইবার স্পেসে মাদকের কেনাবেচাসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এখন অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় মালখানা, হাজতখানা এবং ডগ স্কোয়াডের ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এমন এলাকায় নাইট-মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা সহজ হবে। বিজিবির জন্য দেশে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন।