দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’

এর আগে গত সোমবার সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। ওই বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নতুন এই পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে তখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে তার পরদিনই শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক ঘোষণা এলো, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তি এনেছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সোয়া ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে মূল বেতন ও নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রথম ধাপে সাড়ে ৭ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে। আর বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।