দখলীকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার জেরে বৃটেন ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে বৃটিশ সরকার ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক নীতির 'লাল সীমা অতিক্রম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইলের বিষয়ে সরকারের নীতিতে একটি সমন্বিত পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরের বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বৃটিশ কোম্পানির অর্থায়ন বন্ধের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এই হুঁশিয়ারির জবাবে ইসরাইল পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বৃটেন যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে ইসরাইলও তার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। তিনি এই উদ্যোগকে বড় ধরনের ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম হাউস অব কমন্সে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বিশেষ করে ই-১ বসতি নিয়ে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে বিপন্ন বা শেষ করে দিতে পারে। সরকার জানিয়েছে, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
লেবার পার্টির এমপি ডেবি আব্রাহামসের এক প্রশ্নের জবাবে বার্নহাম আরও বলেন, ইসরাইল যেভাবে দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে হাউসকে বিস্তারিত জানানো হবে। বৃটিশ মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি জানিয়েছেন, সরকার বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানায় এবং ই-১ প্রকল্পের মতো সব অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অবস্থান নিয়েছে।