তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ অভিযোগ করেছেন যে, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, এমন এক কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যেখান থেকে দেশকে টেনে তুলতে হচ্ছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোলায় তিন দিনের সফরকালে নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি ভোলার প্রতিটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এই দাবি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন হয়েছে এবং সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার বর্তমানে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি কিছু মহলের বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, ভোলার মানুষ সেতু চায় না—এমন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি এলাকাবাসীকে আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, শরীয়তপুর হয়ে হিজলা-মুলাদী দিয়ে ঢাকা যাওয়ার বিকল্প সড়ক নির্মাণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে, যা প্রায় ৪০ মিনিট সময় সাশ্রয় করতে পারে। তবে ভোলার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করবেন। আন্দালিব রহমান পার্থ উল্লেখ করেন যে, একটি সড়ক নির্মাণেই প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে ভোলার জন্যই ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি সরকার দেখছে। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন কোনো আসন নেই যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।
নিজের দায়িত্বের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি সততার সাথে তা পালন করবেন। বিগত ১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনো লোভ-লালসায় পা না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি ভোলার উন্নয়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা দখলবাজিকে তিনি প্রশ্রয় দেবেন না। এমনকি তার নাম বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ এমন কাজ করলে তারা দলের কেউ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে সরাসরি ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলা খেয়াঘাট ও নতুন বাজার চত্বরে সমবেত হন। সড়কপথে বরিশাল হয়ে লাহারহাটে পৌঁছানোর পর স্পিডবোটে ভোলা খেয়াঘাটে এলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ আলমগীরের নেতৃত্বে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উকিলপাড়ায় নিজ বাসায় তাকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।