জামালপুরে রাজীব পরিবহনের বাসে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে জামালপুর-ঢাকা রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, মহাসড়কে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায়, যখন জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দায় রাজীব পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকের ওপর উল্টে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর সকালে নান্দিনা বাজার এলাকায় স্থানীয় ছাত্র-জনতার ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সময় উত্তেজিত জনতা রাজীব পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, এ সময় চালক ও সহকারীদের মারধর করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, জাতীয় ছাত্র শক্তির পক্ষ থেকে রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় জামালপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত পরিবহন শ্রমিকরা রাতে জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। রাজীব পরিবহনের চালক মিলন আহমেদ জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।
বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণায় জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এসে বহু যাত্রী গাড়ি না পেয়ে ফিরে গেছেন। ঢাকাগামী যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করায় জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যেতে পারছেন না তারা। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ সাধারণ যাত্রীরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।