মোবাইলে সফটওয়্যার আপডেটের নামে ভুয়া বার্তা ও ফিশিং লিংকের ফাঁদে ফেলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুরের ডিসি বাংলো মোড়ের গোমস্তাপাড়া ও হনুমানতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তাদের গ্রেফতার করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত দুজন হলেন—নীলফামারীর শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) এবং রংপুরের মো. সাগর হোসেন (২৮)।
সিআইডি জানায়, গত ২ জুন এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেটের নামে একটি ভুয়া বার্তা আসে। বার্তার সঙ্গে থাকা ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরপরই তার ফোনটি লক হয়ে যায় এবং ডিভাইসটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপরাধীদের হাতে। পরে ফোনটি সচল হলে তিনি দেখতে পান যে, তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হলে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
তদন্তে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর গত বুধবার দিবাগত রাতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৩টি চেক বই, ১টি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, ১টি ভিসা ডেবিট কার্ড এবং ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সাগর হোসেন জানিয়েছেন, তারা ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই টাকা বিদেশে অবস্থানরত মূল চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে তারা নির্দিষ্ট হারে কমিশন পেতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।
এদিকে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে সিআইডি জানিয়েছে, অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সফটওয়্যার আপডেট, পুরস্কার, চাকরি কিংবা ব্যাংকিং অফারসংক্রান্ত সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো বার্তা পাওয়ার পর মোবাইল ফোন অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।