নতুন জারি করা আমদানি নীতিমালায় পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় এখন থেকে কেবলমাত্র নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা দেশের বিকাশমান বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশে এ ধরনের গাড়ির প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে না।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার মূলত চীন থেকে আমদানিকৃত গাড়িনির্ভর এবং অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এই নির্দিষ্ট কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না। তারা জানিয়েছেন, দেশের গাড়ির বাজার ঐতিহাসিকভাবে জাপাননির্ভর এবং রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলে কম খরচে জাপান থেকে গাড়ি আনা সম্ভব হতো, যা এই খাতের প্রসার ঘটাতে ভূমিকা রাখত।

আমদানিকারকদের মতে, চীন থেকে আনা গাড়ির ক্ষেত্রে খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য নয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে মেরামতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতাও গড়ে ওঠেনি, যা জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে বাজার উন্মুক্ত রাখা হলে ক্রেতারাই তাদের চাহিদানুযায়ী নতুন বা পুরনো গাড়ি নির্বাচনের সুযোগ পেতেন। এখন এই নিষেধাজ্ঞা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির বাজারকে একটি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি করে ফেলতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের (বারভিডা) দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ডন মানবজমিনকে বলেন, এই নীতিমালা এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করেছে যা দেশের প্রায় দেড় হাজার আমদানিকারককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যে নতুন গাড়ির দাম বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা, পুরাতন গাড়ির ক্ষেত্রে তা প্রায় অর্ধেক হতে পারে, ফলে বিক্রি বাড়বে। তিনি সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বারবিডার বর্তমান সভাপতি আব্দুল হক মানবজমিনকে জানান, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে এবং ডব্লিউটিও’র এ নিয়ে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, সরকার চাইলে ব্যাটারির আয়ুষ্কালের মতো শর্ত জুড়ে দিতে পারে, কিন্তু পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা পুরো খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বারভিডা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং স্মারকলিপি দিয়েছে।

গত ২৪শে আগস্ট জারি করা এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, ৫ বছরের অধিক পুরাতন গাড়ি, মোটরকার, প্যাসেঞ্জার কার ও ট্রাক আমদানি করা যাইবে তবে পুরাতন বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাইবে না। বারবিড়া সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালা জারির আগেই কিছু রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি জাহাজীকরণ করা হয়েছিল, যা খালাসের সুযোগ থাকলেও এরপর থেকে আর এ ধরনের গাড়ি আমদানি করা যাবে না। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে করছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, পরিবেশদূষণ রোধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া সব শুল্ক-কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নতুন পিএইচইভি বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও কর কমিয়ে সুবিধা দেয়া হয়েছে।