বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা এডিন জেকো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর ৪০ বছর বয়সি এই ফুটবলার আগামী মাসে দেশের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন। আগামী ২ অক্টোবর নেশনস লিগে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
২০০৭ সালে তুরস্কের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই জেকো বসনিয়ার আক্রমণভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ১৫১ ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি মোট ৭৩টি গোল করেছেন। বিদায়ের সময় তিনি বসনিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে রাখছেন।
ইনস্টাগ্রামে নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়ে জেকো এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব তার ক্যারিয়ারের অন্য সব অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় দলের জার্সি পরা ছিল তার শৈশবের স্বপ্ন। ১৫১টি ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে বিশেষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের জার্সির প্রতি তার ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়েনি। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবারই দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিকে তিনি একটি আবেগঘন শেষ রাত হিসেবে সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।
জেকোর অবদান কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার নেতৃত্ব ও নৈপুণ্যে বসনিয়া ২০১৪ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়, যা ছিল স্বাধীন দেশ হিসেবে কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ। জেকো এটিকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে গণ্য করেন। এছাড়া ওয়েলসের বিপক্ষে তার গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের স্মৃতি তিনি এখনো লালন করেন। বসনিয়ার রাস্তায় মানুষের উৎসবের দৃশ্যকে তিনি ফুটবলের কাছ থেকে পাওয়া জীবনের অন্যতম সেরা উপহার বলে অভিহিত করেছেন।
ক্লাব ক্যারিয়ারে ভলফসবুর্গ, ম্যানচেস্টার সিটি ও ইন্টার মিলানের মতো ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবে খেলা জেকো বর্তমানে শালকের হয়ে খেলছেন। ক্যারিয়ারের শেষ দিকেও ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে বসনিয়ার শেষ ৩২-এ ওঠার পথে তার অভিজ্ঞতা ও উপস্থিতি দলের জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে এবার সেই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের পর্দা নামতে যাচ্ছে।