কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচল বজায় রাখার লক্ষ্যে সামরিক সম্পদ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সামরিক সম্পদ মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার এই মিশনে সামুদ্রিক টহল বিমান, লজিস্টিক সহায়তাকারী জাহাজ এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর মতো বিকল্পগুলো বিবেচনা করছে। এই সম্ভাব্য অভিযানের ধরন ও পরিধি নিয়ে সিউল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি মাসেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে জাতীয় সংসদে সম্মতি প্রস্তাব তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কীভাবে কার্যকর ও বাস্তবমুখী সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন খবর ‘সত্যের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন’ বলে উল্লেখ করেছে ব্লু হাউস।
এর আগে আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সহায়তা করতে অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সিউলের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে থাকা সিউল এখন হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সম্পদ মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।